দেশের সমস্ত সরকারি লেনদেন যদি ডিজিটালাইজড করা হয়, তাহলে দুর্নীতি কমার সম্ভাবনা কতটুকু?
দেশের সমস্ত সরকারি লেনদেন যদি ডিজিটালাইজড করা হয়, তাহলে দুর্নীতি কমার সম্ভাবনা কতটুকু?
জীবনে একবার শখ হয়েছিলো একখান পাসপোর্ট করার (২মাস আগে)।
কেনো শখ হয়েছিলো, বিদেশে একটু উচ্চশিক্ষা অর্জনের আশায়।
সরকার টিভিতে এড দেয় এবং পাসপোর্ট অফিসের দেয়ালের প্রতিটি কোনায় লেখা-' পাসপোর্ট আপনার নাগরিক অধিকার,অনলাইনে নিজের আবেদন নিজেই করুন, দালাল-প্রতারক থেকে দূরে থাকুন'।
ব্যাস এড দেখেতো আমি দারুন খুশি।দ্যাশ ডিজিটাল হইতাছে, দ্যাশের মানুষ সব ভালা হইয়্যা গেছে।
নিজে নিজে ই-পাসপোর্টের আবেদন করলাম, ব্যাংকে গিয়ে ডিজিটাল ওয়েতে পাসপোর্ট ফি জমা দিয়ে পাসপোর্ট অফিসে কাগজপত্র জমা দিলাম,এনরোলমেন্ট করে আসলাম।
২১ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট ডেলিভারির কথা কিন্তু তারা আমার এনরোলমেন্ট ২৫দিন আটকে রাখলো ,পুলিশ ভেরিফিকেশনও হলোনা।
দিন যায় ,সপ্তাহ যায় ,মাস যায় তবুও আমার কাগজপত্র সাবমিট হয়না।অফিসে গেলে তারা বিভিন্ন উল্টা-পাল্টা বুঝিয়ে আর ধমক দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।
এবার আমি আমার এলাকার পাসপোর্টধারীদের শরণাপন্ন হলাম এবং পরামর্শ নিলাম।তারা বললো ভাই, 'দালাল ধরো,নইলো জীবনেও পাসপোর্ট পাবা না'।নিজে নিজে আবেদন করেছি বলে অনেকে টিটকারিও দিলো।
পরে খোজ-খবর নিয়ে জানলাম, পাসপোর্ট অফিসের নাকি একটা চ্যানেল আছে।ওই চ্যানেলের মাধ্যমে তাদের হাতে টাকা না গেলে তারা এনরোলমেন্ট আটকে রাখে।পরে অফিসের এক কর্মচারীর সাথে কথা বলে ৫০০টাকা দিয়ে অনেক অনুনয়-বিনয় করে এনরোলমেন্টটা করলাম।সেই কর্মচারীর কাছে ক্ষমাও চাইলাম, বললাম- 'স্যার, না জেনে, না বুঝে অনেক বড় ভুল করেছি ,নিজে নিজে আবেদন করে'।
এরপর আসলো পুলিশ ভেরিফিকেশন।পুলিশের যে কী পরিমান দেমাগ, আর যে পরিমান হয়রানি করে তা আমি বলে বোঝাতে পারবোনা। পুলিশকে ঘুষ না দিলে তারাও ফাইল আটকে রাখে অনেকদিন।কাগজপত্র ঠিক থাকলে পজিটিভ রিপোর্ট দিতে তারা বাধ্য কিন্তু ঘুষ না দিলে আপনার রিপোর্ট , ইভ্যালীর পণ্য ডেলিভারির মতো ডেলিভারড করে।তাই, সেখানেও টাকা দিয়ে নিজেই অন্যায়টাকে সহ্য করে নিলাম।
সরকারি ফি ডিজিটালি প্রদান করা হলেও ,কলকাঠি ঠিকই ওই স্থানীয় নেতা এবং দূর্নীতিবান অফিসারদের হাতেই থাকে।আর , সততার কাহিনী সেতো ওই কীতাবেই শোভা পায়।
আর, অন্যায়ের প্রতিবাদ চাইলে করতে পারবেন, যদি কী না আপনার কানের লতি গণ্ডারের চামড়ার হয়।
প্রশ্নকর্তা ভাই , এদেশে জন্মগ্রহন করে আমি দারুন হতাশ।
বাংলাদেশ মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের। আমিও একজন মুসলিম।কিন্তু সমস্যা হলো আমরা সব নামে মুসলিম।কামের বেলায় মোটেও না। কোরআন সবাই পড়ি, কিন্তু কোনটা কোরআনের আদেশ আর কোনটা নিষেধ তা আমরা বুঝিনা।
পাসপোর্ট অফিসের মধ্যে মসজিদ আছে, সেখানে আজান দেয় ,নামাজ হয়।কিন্তু, তারা কেমন মুসলমান তা আমি জানিনা।
হয়তোবা সরকারি প্রতিটা সেক্টর-ই এভাবে চলে , কিন্তু আমার জানার অভাব।